নতুন সিনেমা ‘চিরকুট’এর পোস্টার প্রকাশও দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মুক্তি 

Oct 2, 2026 - 13:05
 0  4
নতুন সিনেমা ‘চিরকুট’এর পোস্টার প্রকাশও দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মুক্তি 
নব্বইয়ের দশকের একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস,  তারুণ্যের উচ্ছ্বাস,  বন্ধুত্ব, নস্টালজিয়া, প্রেম আর জীবনের নানা গল্প এবার উঠে আসছে বড় পর্দায়।  সেকালের সেই গল্পকে একালের সিনেমার ভাষায় দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’। আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি চলছে চলচ্চিত্রটির।
 
ফিল্ম ম্যানিয়া প্রযোজিত এ চলচ্চিত্রটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নির্মাতা মুনতাসির আকিব।
 
চলচ্চিত্রটির পোস্টার উন্মোচন উপলক্ষে আজ ফিল্ম ম্যানিয়ার নিকেতন কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠানের। পোস্টার উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ‘চিরকুট’-এর আনুষ্ঠানিক প্রচারণার নতুন অধ্যায়।
 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র পরিচালক খোরশেদ আলম খসরু এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও লেখক লুৎফর হাসান।
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মুনতাসির আকিব। অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে ছিলেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মীম, সুমন পাটোয়ারী, সিয়াম নাসির, মাহিরা হাসান, সাদি খান, শামীম আহসান ও ইমু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি, সংগীত পরিচালক অভিষেক ভট্টাচার্যসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেকে।
 
নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প
‘চিরকুট’-এর গল্পের পটভূমি নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সময়ের ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের জীবনযাপন, বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, আবেগ এবং একটি সত্য ঘটনার স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া একটি সময়কে বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের সামনে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
 
চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ এর বিশাল অভিনয়শিল্পী দল। এতে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মীম, কাজী নওশাবা, সুমন পাটোয়ারী, তেহজিব, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, সঞ্জিব আহমেদ, শাওন আশরাফ, ইকবাল, আজমল মিঠু, সিয়াম নাসির, শিমুল, সাদি খান, শামীম আহসান, শেখ চাঁদনী, মাহিরা হাসান, ইব্রাহিম সুজনসহ আরও অনেকে।
 
শুধু পেশাদার অভিনয়শিল্পীরাই নন, ‘চিরকুট’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। চলচ্চিত্রটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থী অভিনয় করেছেন। ফলে সিনেমাটিতে শুধু গল্পের সময়কালই নয়, তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আবহও বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
 
 
চারটি গান, কণ্ঠে জনপ্রিয় শিল্পীরা
 
‘চিরকুট’-এর অন্যতম আকর্ষণ এর সংগীত। চলচ্চিত্রটিতে রয়েছে চারটি গান। গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রেহান রাসুল, মাশা,স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি,মেহেদী সরকার, রাকিব ও ঐশী।
 
চলচ্চিত্রটির গানগুলোর কথা লিখেছেন লুৎফর হাসান, পুলক অনিল, স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি ও মেহেদী সরকার।
সংগীত আয়োজনে ছিলেন শান্ত, অভিষেক ভট্টাচার্য, খৈয়াম সানু সন্ধি ও মেহেদী সরকার।
 
 
পর্দায় নব্বইয়ের দশক ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ
 
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে পর্দায় তুলে ধরা নির্মাতার জন্য ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সময়ের পার্থক্য, পোশাক, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং সে সময়ের জীবনযাপনের নানা অনুষঙ্গকে গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
 
নির্মাতা মুনতাসির আকিব বলেন, “নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা থেকেই ‘চিরকুট’-এর গল্পের সূত্রপাত। সেই সময়ের পরিবেশ, মানুষের আবেগ এবং ঘটনাটিকে সিনেমার ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দর্শক যেন শুধু একটি গল্প দেখেন না, বরং একটি সময়কে অনুভব করতে পারেন—সেটাই আমাদের চেষ্টা।”
দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নির্মাণপর্ব শেষে এখন মুক্তির অপেক্ষায় ‘চিরকুট’। নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প, সেই সময়ের আবহ এবং বিশাল অভিনয়শিল্পী দলের উপস্থিতি নিয়ে চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের।
 
সেকালের গল্প, একালের সিনেমা- এই ভাবনা নিয়েই আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সামনে হাজির হওয়ার অপেক্ষায় ‘চিরকুট’।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বিনোদন ভিশন: বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Creative Economy & Cultural Intelligence Platform হওয়া; যা শিল্পী, নির্মাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিমনস্ক পাঠকদের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পকে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।